
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে বৈরাগীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ জামাইয়ের নির্যাতনের হাত থেকে স্ত্রী, শশুড়,শাশুড়ীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
থানার এজাহার সুত্রে জানা গেছে,পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের ঝাপোড় (হিন্দুপাড়া) মৃত-প্রসন্ন চন্দ্র বর্মণের ছেলে শ্রী নিখিল চন্দ্র বর্মণ (৫২) তার মেয়ে পিংকী রানী (২২) কে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মদনপুর (হিন্দুপাড়া) গ্রামের মৃত- বিনয় চন্দ্র বর্মণের ছেলে শ্রী মাধব চন্দ্র বর্মণ (৩৩) এর সাথে হিন্দু বিধান মতে বিভিন্ন উপঢৌকন সহ বিবাহ দেয়। বিবাহের পর পিংকী রানী স্বামীর ঘর সংসার করাকালে স্বামীর চারিত্রিক ক্রুটি পরিলক্ষিত হইলে উক্ত হীন কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য বার বার অনুরোধ করে। বিষয়টি পিংকীর বাবার পরিবার ও স্বামীর পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনের মাঝে জানাজানি হইলে গত দেড় বছর পূর্বে স্বামী মাধব স্ত্রী পিংকীকে তার বাবার বাড়ীতে জোরপূর্বক রেখে আসে। এরপর পিংকীর বাবা মেয়েকে স্বামীর বাড়ীতে রেখে আসার জন্য দফায় দফায় আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে পিংকীর বাবা, মা তার গ্রামের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়া মাইক্রোবাস যোগে নিরুপায় হয়ে মেয়ে সহ জামাইয়ের বাড়ীতে আজ ২৪ জানুয়ারী সকাল ১০ টার দিকে নিজ গ্রাম থেকে রওনা দিয়ে বেলা ১১ টার দিকে জামাই মাধব চন্দ্রের বাড়ীতে আসে বিষয়টি মিমাংসার জন্য। জামাই মাধব স্ত্রী, শশুড়, শাশুড়ীকে স্ব-সম্মানে বসত বাড়ীর ভিতরে ডাকিয়া নিয়া বাড়ীর মেইন গেটের দরজা (স্ট্রীলের গেটে) হ্যাসবল্ট লাগাইয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে জামাই মাধব চন্দ্র ও তার ভাই শ্রী ভীম চন্দ্র বর্মণ (৪৫), শ্রী বিধান চন্দ্র বর্মণ (৫০) শ্রী মুকন্দ চন্দ্র বর্মণ (৩৫) অতর্কিত ভাবে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে এবং পিংকী রানীর গলার ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণের ১টি শীতাহার মালা এবং শাশুড়ী সাধনা রানীর ৮ আনা স্বর্ণের ১ জোরা কানের দুল যাহার অনুমান মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা চুরির উদ্দেশ্যে খুলিয়া নিয়া শাশুড়ীকে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ ছাড়াও জোরপূর্বক ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সহি-স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার সময় জামাই মাধব চন্দ্রের এহেন কর্মকান্ডের হাত থেকে রক্ষা পেতে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করে। পরে বৈরাগীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনার স্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইজার উদ্দিন জানান এ ঘটনায় শশুড় শ্রী নিখিল চন্দ্র বাদী হয়ে জামাই ও তার ২ ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।