
মোঃ সৌরভ হোসেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহ আলমকে নিয়ে আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া-কে ঘিরে প্রকাশিত একটি ছবির নিচে সাবেক কর্মকর্তা হাবিব রহমানের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সচেতন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বগুড়া আগমন উপলক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম পল্লী উন্নয়ন একাডেমী পরিদর্শনে যান। সফরকালে তোলা একটি ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সেই ছবির মন্তব্য ঘরে হাবিব রহমান লেখেন –
“মন্ত্রী পাশে মন্ত্রীর চ্যালাদেরি ক্ষমতা দেখছি। একাডেমির ডিজি মহোদয়ের থাকার কথা মন্ত্রীর পাশে। ইহাই ডেকোরাম। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মন্ত্রী কি মূর্খ নাকি? তিনি ডেকোরাম জানেন না?”
এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের একজন সাবেক কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন ভাষা ও আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। গঠনমূলক মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটাক্ষ ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “ডেকোরাম” নিয়ে মতামত থাকতে পারে, কিন্তু সেই মতামত প্রকাশের ভাষা হতে হবে শালীন ও সম্মানজনক। একজন জনপ্রতিনিধিকে “মূর্খ” বলে সম্বোধন করা শুধু অরুচিকরই নয়, এটি সামাজিক সৌজন্যবোধেরও পরিপন্থী। স্থানীয় মহলের অভিযোগ, হাবিব রহমান অবসর গ্রহণের পরও মাঝেমধ্যে একাডেমীতে এসে অবস্থান করেন এবং নানাভাবে অযাচিত তৎপরতা চালান। ফলে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত আচরণের অংশ হিসেবে দেখছেন। এদিকে, আরডিএ অফিসের কর্মকর্তা Md Rezaul Karik-এর ফেসবুক পোস্টে করা হাবিব রহমানের ওই মন্তব্যের জবাবে Mohidul Islam নামে ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সেখানে লেখা হয়- “যারা শিষ্টাচার, প্রোটোকল ও ডেকোরামের ভাষা মুখে আনেন, তাদের আগে ভদ্রতা ও বাস্তবতা শেখা উচিত। কোনো অনুষ্ঠান বা সরকারি আয়োজনে কে কোথায় দাঁড়াবেন এটি পরিস্থিতি, নিরাপত্তা, আয়োজকদের পরিকল্পনা ও মুহূর্তের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ব্যক্তিগত ক্ষোভ, হীনমন্যতা বা বিদ্বেষ থেকে সেটিকে ‘চ্যালাদেরি ক্ষমতা’ বলে আখ্যা দেওয়া কেবলই অসৌজন্যমূলক নয়, বরং নিজের মানসিক দীনতাকেই প্রকাশ করে। একজন মাননীয় মন্ত্রীকে ‘মূর্খ’ বলে সম্বোধন করা শুধু অশালীনতা নয়, এটি সভ্য ভাষাচর্চারও পরিপন্থী। মতভেদ থাকতে পারে, সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু ভাষার সংযম হারিয়ে অপমান ছোড়া কখনোই যুক্তির পরিচয় নয়। যারা সম্মানজনক আলোচনার বদলে কটূক্তিকে অস্ত্র বানান, তারা আসলে নিজের অবস্থানকেই দুর্বল করেন। মনে রাখা উচিত পদমর্যাদা নয়, ব্যক্তিত্বই মানুষকে বড় করে। আর শালীনতা ছাড়া কোনো প্রতিবাদই মর্যাদা পায় না। তাই ভিত্তিহীন বিদ্বেষ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট না করে, তথ্যভিত্তিক ও সভ্য ভাষায় কথা বলাই উত্তম।”
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জনমতের বড় প্ল্যাটফর্ম। তাই এখানে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে কাউকে অপমান করার অধিকার নয়। বরং যুক্তি, তথ্য ও শালীনতার ভিত্তিতে মতামত দেওয়াই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয়। অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ব্যক্তি আক্রমণ নয় পারস্পরিক সম্মান, ভদ্রতা ও ইতিবাচক আলোচনাই হওয়া উচিত সমাজ গঠনের পথ।
পরে পোস্টে গিয়ে দেখা যায়, সেই মন্তব্য আর দৃশ্যমান নেই। ধারণা করা হচ্ছে, মন্তব্যকারী নিজেই সেটি মুছে ফেলেছেন। তবে মন্তব্যটি সরিয়ে ফেললেও ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তার স্ক্রিনশট আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখন সেই স্ক্রিনশট ঘিরে সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, অনলাইনে কিছু লিখে পরে মুছে ফেললেই দায় শেষ হয়ে যায় না; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে যেতে পারে।