১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি| দুপুর ১২:০৬| গ্রীষ্মকাল|
Title :
পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: নাগরপুরে সাংগঠনিক পদ ফিরে পেলেন বিএনপি নেতা মোঃ রফিজ উদ্দিন নাগরপুরে প্রাথমিক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি শরীয়তপুরে আতাউর রহমান খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি নাগরপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দুর্ভোগ চরমে নাগরপুর সদর ইউনিয়নে পুনর্বহাল কুদরত আলী: মানবতার চেয়ারম্যান ফিরলেন ক্ষমতার আসনে এমপির নির্দেশনায় নাগরপুরে ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, অভিভাবকদের হাতে পানীয় আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেললেও রইল প্রমাণ: সাবেক কর্মকর্তার মন্তব্যে তোলপাড়, স্ক্রিনশট ঘিরে আলোচনা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এ্যাড. শওকত আরা আক্তার (উর্মি) তারেক রহমানকে নিয়ে রাশেদ প্রধানের কটূক্তির প্রতিবাদে: শরীয়তপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

যশোরের মনিরামপুরে জন্মসনদ পেতে সীমাহীন ভোগান্তি, ও হইরানির অভিযোগ সাধারন মানুষের

হাফিজুর শেখ মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
  • Update Time : শুক্রবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২২,
  • 176 Time View

৫ মাস আগে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ নিজের জন্মসনদ করাতে যশোরের মণিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আসেন উপজেলার মামুদকাটি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা দিয়েও জন্মসনদ হাতে পাননি তিনি। দিনের পর দিন পরিষদের বারান্দায় ঘুরে উদ্যোক্তা দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি।
একইভাবে সাতমাস আগে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার কাছে বয়স সংশোধনের আবেদন দেয় টেংরামারী হাইস্কুলের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম। আজও সঠিক জন্মসনদ পায়নি সে। পরিষদের উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন তাকে আজ না কাল এভাবে ঘুরাচ্ছেন।
জন্মসনদের আবেদন দিয়ে হয়রানির অভিযোগ খেদাপাড়া ইউনিয়নের শতশত মানুষের। দিনের পর দিন পরিষদে হেঁটে তারা জন্মসনদ পাননা বলে অভিযোগ। পরিষদের উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন টাকা নিয়ে কাজ না করে তাদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
এদিকে ভোগান্তির পর জন্মসনদ হাতে পেলেও সেখানে থাকছে নানা ভুল। ফলে বাড়তি টাকা দিয়ে আবার নতুন করে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজনকে।
খেদাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের ভ্যান চালক মতিয়ার রহমানের ছেলের জন্য জন্মসনদের আবেদন করে পেয়েছেন বহু পরে। সে সনদ নিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলে আদম আলীকে ভর্তি করাতে যেয়ে ফিরে এসেছেন তিনি।
খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরবরাহ করা শিশু আদম আলীর জন্মসনদটি ভুলে ভরা। সনদে দেখা গেছে পিতা মতিয়ার রহমানের নামের স্থানে লেখা হয়েছে তার মাতা ফেরদৌসী খাতুনের নাম। আর মাতার নামের স্থানে লেখা হয়েছে শিশুটির বাবার নাম। তাও আবার বাবার নামের আগে মোছাঃ জোড়া হয়েছে।মতিয়ার রহমান বলেন, আমি লেখাপড়া জানিনে। জন্মসনদ নিয়ে স্কুলে ছেলেরে ভর্তি করাতি গিলি স্যারেরা বলেছে এ সনদ ভুল। পরে ছেলেরে ভর্তি না করায়ে ফিরে আইছি।
তিনি বলেন, সনদ ঠিক করে আনতি কদিন আগে পরিষদে গিলাম। সচিব কলে কয়দিন পরে আসেন।হারুর-অর-রশিদ বলেন, আমার নিজের, স্ত্রী রুবিনার, দুই মেয়ে রুনা আর মারিয়ার জন্ম নিবন্ধন করাতি পাঁচমাস আগে খেদাপাড়া পরিষদে গিছি। উদ্যোক্তা আনোয়ার ৮০০ টাকা চাইছে; দিছি। এরপর থেকে পরিষদে হাঁটা শুরু। আজ না কাল এভাবে আমারে হাঁটাচ্ছে উদ্যোক্তা। ১০-২৫ দিন আগে একদিন দুপুরে গিছি। রাত ৮ টা পর্যন্ত বসে ছিলাম। পরে খালি হাতে ফিরে আইছি।
হারুন-অর-রশিদ বলেন, বড় মেয়ে রুনা ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। ওর স্কুল থেকে জন্মসনদের জন্যি চাপ দেচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) পরিষদে যেয়ে বসে ছিলাম। পরে শুনি আমার আবেদন হারায় গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে উদ্যোক্তা নিয়োগ দেয়া হলেও মূলত পরিষদে আসেন আনোয়ার হোসেন। তার স্ত্রী পরিষদে আসেননা। ফলে জন্মসনদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা লোকজন।
এদিকে ভুলে ভরা জন্মসনদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল করা হয়েছে খেদাপাড়া ইউপির সচিব মৃনাল কান্তিকে। তিনি ফোন ধরেননি।উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার প্রহল্লাদ দেবনাথ বলেন, হারুর-অর-রশিদের জন্মসনদের বিষয়ে উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছি। সে কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে
তিনি বলেন, আমি আনোয়ার হোসেনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি। সামনে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো হবে।
খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, হারুনের আবেদন খুঁজে পাচ্ছে না উদ্যোক্তা। আমার কাছে হারুন এসেছিলেন। তাকে বলেছি আগামী রবিবার নতুন আবেদন দিতে। আবেদন পেলে ওই দিনই আগের খরচে তার জন্মসনদ করে দেবো।চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে আমি পরিষদে নতুন লোক নিয়োগ দিয়েছি। উদ্যোক্তা আনোয়ারের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ। বিষয়টি ইউএনওকে লিখিত আকারে জানিয়ে তাকে সরানোর ব্যবস্থা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category