
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি গবাদিপশুও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়েছে।
আজ ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বাবনাপাড়া মোড়, নঙ্গিনা বাড়ী, ঋষীবাড়ী, নাগরপুর বাজার, দুয়াজানি, থানা মোড়, উপজেলা চত্বর ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায় কুকুরটি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি রয়েছেন।
নাগরপুর সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের রেজিস্টারে এখন পর্যন্ত ৮ জন আহতের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২ জন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং ৩ জন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আরও কয়েকজন আশপাশের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
আহতদের কয়েকজন জানান, কুকুরটি আকস্মিকভাবে পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াতে থাকে। এতে কেউ প্রতিরোধের সুযোগ পাননি এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের বলেন- কুকুরে কামড়ানোর পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না নিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আঃ মমিন মুঠোফোনে বলেন- বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম জরুরি। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরকে টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেও পর্যাপ্ত মজুদ নেই। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে কুকুর নিয়ন্ত্রণ বা টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিত না থাকায় এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।