নাগরপুর (টাংগাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিউবয়েলের পানি পান করে অন্তত ৩৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আজ ২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপের পানিতে বিষাক্ত কোনো পদার্থ মিশে যাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে অষ্টমী (১৩) ও জান্নাত (১২) নামে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান- সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. মিজানুর রহমান তাকে জানান যে, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের ভেতরে একটি পলিথিন পাওয়া গেছে, যেখান থেকে বিষাক্ত গন্ধ আসছিল। এর কিছুক্ষণ পর যেসব শিক্ষার্থী ওই নলকূপের পানি পান করেছিল তারা একে একে বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাদির আহম্মেদকে অবহিত করা হয় এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদির বলেন- অসুস্থ অবস্থায় অন্তত ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কোনো কীটনাশক নলকূপের পানিতে মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ এরফান উদ্দিন এবং নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।