মোঃ সোহেল মিয়া, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ সদরের পরানগঞ্জের মীর কান্দাপাড়া চাঞ্চল্যকর বয়স্ক মহিলা নুরজাহান হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই
গত ২৮/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নূরজাহান বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআিই ময়মনসিংহ জেলা। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রনি মিয়া(২৬), পিতা-রবিকুল ইসলাম, মাতা-মৃত পারভীন, গ্রাম-মীরকান্দাপাড়া, পোস্ট-আম্বিকাগঞ্জ, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ। তাকে গত ০২/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ০৪.১৫ টায় কোতোয়ালী থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার ও তার কাছ থেকে ডিসিস্টের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আসামী রনিকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সে হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
বর্ণনা মতে আসামী রনি মিয়া ও ডিসিস্ট নূরজাহান মীরকান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ডিসিস্ট তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে বাড়িতে একাই থাকতো। আসামী রনি বিবাহিত ও পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। সে ডিসিস্ট নূরজাহানকে নানী বলে ডাকতো। সে মাঝেমধ্যে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে সময় কাটাতো এবং বিনিমেয়ে ঘর ভাড়া হিসাবে নূরজাহানকে ৫০০ টাকা করে দিতো। কিন্তু সর্বশেষ আসামী রনি তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের ঘরে থাকলেও ৫০০ টাকা না দিয়ে চলে গিয়েছিলো।
গত ২৮/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সন্ধ্যা ৭.০০ টায় আসামী রনি মিয়া নূরজাহানের বাড়িতে যায় কিন্তু বাড়িতে নূরজাহানকে না পেয়ে সে আম্বিকাগঞ্জ বাজারে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত ০৯.৩০ টায় সে নূরজাহানকে বাড়ির দিকে যেতে দেখে তার পিছু নিয়ে বাড়িতে যায়। তারপর সে নূরজাহানের সাথে তার প্রেমিকাকে আবার নিয়ে আসার ব্যাপারে কথা বলে। একপর্যায়ে নূরজাহান তার পূর্বে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে রনি মিয়া তা দিতে অস্বীকার করে। অতঃপর ডিসিস্ট নূরজাহান আসামী রনি মিয়াকে তার বাড়িতে প্রেমিকা নিয়ে আসার বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এরপর নূরজাহান একটু দূরে গিয়ে মোবাইলে কথা বলতে থাকলে আসামী রনি মিয়া মনে করে যে, নূরজাহান সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছে। তখন আসামী রনি মিয়া ডিসিস্ট নূরজাহানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী রনি মিয়া নূরজাহানের ঘরে থাকা মসলা বাটার শিল নিয়ে নূরজাহানের মাথা থেঁতলে দেয়। আসামী রনি মিয়া নূরজাহানের মৃত্যু নিশ্চিত করে নূরজাহানের লাশ রান্না ঘরের পাশে খড় দিয়ে ঢেকে নূরজাহানের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকে ডিসিস্ট নূরজাহানের আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে গত ৩০/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ০১.৩০ টায় রান্না ঘরের পাশে খড়ে ঢাকা অবস্থায় ডিসিস্টের মেয়ের জামাই মোজাম্মেল লাশ দেখতে পায়। এরপর ডিসিস্টের মেয়ে নূরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-৯০(০১)২৬ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। বৃদ্ধা নূরজাহানকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মামলাটি পিবিআিই অধিগ্রহণ করে এবং এসআই(নিঃ) অমিতাভ দাস তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পিবিআই ময়মনসিংহে একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়। বিশেষায়িত টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল হত্যাকারী মোঃ রনি মিয়া(২৬), পিতা-রবিকুল ইসলাম, মাতা-মৃত পারভীন, গ্রাম-মীরকান্দাপাড়া, পোস্ট-আম্বিকাগঞ্জ, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী রনি মিয়া ডিসিস্ট নূরজাহানকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ননা দেয়। গতকাল তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে গ্রেফতারকৃত আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধের দায় সম্পৃক্ত করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এ বিষয়ে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ৫০০ টাকার জন্য ষাটোর্ধ্ব একজন বৃদ্ধ মহিলাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর লাশ গোপন করার জ্ন্য রান্না ঘরের খড়ের ভেতর লাশ লুকিয়ে রেখেছিলো এবং হ্ত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ছিলো। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআিই ময়মনসিংহ জেলার সকল অফিসার ও ফোর্সদের আন্তরিক, নিরলস প্রচেষ্টা ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।