
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই রক্তের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মাসুদ এ হাসান। তিনি বাঘা পৌর এলাকার গাওপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন ও
মাকসুদা বেগম দম্পতির সন্তান।
বাংলা বিভাগের অনার্স ফাইলাল ইয়ারে পড়া শোনার পাশাপাশি মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অনবরত। রক্ত দেওয়া ও সংগ্রহের নেশায় ছুটে চলেছেন শহর কিংবা গ্রামে। কখনো নিজে রক্ত দেন, আবার কখনো রক্তদাতা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতাল বা ক্লিনিকে।
মাসুদ এ হাসান উপজেলা জুড়ে এক নজির সৃষ্টি করেছেন। কয়েক বছর আগেও রক্তের প্রয়োজনে এলাকাবাসী দ্বারস্থ হতেন পেশাদার রক্তদাতাদের কাছে। মূল্য পরিশোধ করে রক্ত সংগ্রহ করতেন। বেশি বিপাকে পড়ত গরিব-দুস্থরা। মাসুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এখন বিনামূল্যে এবং সহজেই রক্ত পাচ্ছে তারা। হাসি ফুটছে অনেকের মুখে।
একসময় রক্ত দিতে ভয় পেতেন মাসুদ । কেউ রক্ত দেওয়ার কথা বললে নানা অজুুহাতে এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর ভালো লাগা শুরু হয় তার। অসহায় পরিবারের মুখে অমলিন হাসি দেখে রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ হন। এবং ২০২০ সালের ১৪ আগষ্ট বাঘা ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫হাজার চারশত জন । তখন থেকেই পুরোদমে কাজ করে চলেছেন। এখন এক ব্যাগ রক্তের জন্য মুঠোফোনে একটা কলই যথেষ্ট।
“একে অপরের পাশে থাকি, অসহায় মানুষের মুখে ফোটাবো হাসি। হাসবে রোগী বাঁচবে প্রাণ সেচ্ছায় করি রক্তদান” এই মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন মাসুদ। বাঘা ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সদস্যদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১১৮১ জন রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছেন। নিজে রক্ত দিয়েছেন বেশ কয়েক বার। অনেকেই এখন তাকে রক্তের ফেরিওয়ালা মাসুদ বলেও সম্বোধন করে থাকেন।
রক্তদান ছাড়াও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাস্ক বিতরন, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, এতিম শিশুদের জন্য রমজান মাসে ইফতারির আয়োজন, স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে
মোঃ রাকিব, স্টাফ রিপোর্টার,
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই রক্তের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মাসুদ এ হাসান। তিনি বাঘা পৌর এলাকার গাওপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন ও
মাকসুদা বেগম দম্পতির সন্তান।
বাংলা বিভাগের অনার্স ফাইলাল ইয়ারে পড়া শোনার পাশাপাশি মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অনবরত। রক্ত দেওয়া ও সংগ্রহের নেশায় ছুটে চলেছেন শহর কিংবা গ্রামে। কখনো নিজে রক্ত দেন, আবার কখনো রক্তদাতা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতাল বা ক্লিনিকে।
মাসুদ এ হাসান উপজেলা জুড়ে এক নজির সৃষ্টি করেছেন। কয়েক বছর আগেও রক্তের প্রয়োজনে এলাকাবাসী দ্বারস্থ হতেন পেশাদার রক্তদাতাদের কাছে। মূল্য পরিশোধ করে রক্ত সংগ্রহ করতেন। বেশি বিপাকে পড়ত গরিব-দুস্থরা। মাসুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এখন বিনামূল্যে এবং সহজেই রক্ত পাচ্ছে তারা। হাসি ফুটছে অনেকের মুখে।
একসময় রক্ত দিতে ভয় পেতেন মাসুদ । কেউ রক্ত দেওয়ার কথা বললে নানা অজুুহাতে এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর ভালো লাগা শুরু হয় তার। অসহায় পরিবারের মুখে অমলিন হাসি দেখে রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ হন। এবং ২০২০ সালের ১৪ আগষ্ট বাঘা ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫হাজার চারশত জন । তখন থেকেই পুরোদমে কাজ করে চলেছেন। এখন এক ব্যাগ রক্তের জন্য মুঠোফোনে একটা কলই যথেষ্ট।
“একে অপরের পাশে থাকি, অসহায় মানুষের মুখে ফোটাবো হাসি। হাসবে রোগী বাঁচবে প্রাণ সেচ্ছায় করি রক্তদান” এই মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন মাসুদ। বাঘা ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সদস্যদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১১৮১ জন রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছেন। নিজে রক্ত দিয়েছেন বেশ কয়েক বার। অনেকেই এখন তাকে রক্তের ফেরিওয়ালা মাসুদ বলেও সম্বোধন করে থাকেন।
রক্তদান ছাড়াও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাস্ক বিতরন, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, এতিম শিশুদের জন্য রমজান মাসে ইফতারির আয়োজন, স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ করতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যামপিং সহ নানা সামাজিক কাজ করে চলেছেন তিনি । কারও রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার পর রক্তগ্রহীতার ভালোবাসা আর হাসি তার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার মনে হয়। ফিরে পান নতুন উদ্যম। নিজেকে কল্পনা করে সবচেয়ে সুখী ও সার্থক মানুষের তালিকায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রক্ত নিয়ে কাজ করতে চান রক্তের ফেরিওয়ালা মাসুদ।
মাসুদ এ হাসান নিয়মিত একজন রক্তদাতা। সে প্রথম আমার ছোট বোনকেই রক্ত দিয়েছে। কারো রক্তের প্রয়োজন, এমন কথা শুনলে সে অস্থির হয়ে যায় রক্ত যোগাড় করে দিতে। সে খুব পরিশ্রমী ছেলে, বিভিন্নভাবে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছে, মিষ্টভাষী ও ভদ্র। নিজ এলাকায় তাকে সবাই খুব পছন্দ করে। অন্যকে সাহায্য করতে কখনো দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না। শুধু নিজের শরীর থেকে রক্ত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অন্যের জীবন বাঁচাতে রক্ত সংগ্রহও করে দেয় মাসুদ। এ পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষকে রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছে। বাঘা
ছাড়াও ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় রক্ত জোগাড় করে দিয়েছে বাঘা ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া গ্রামে গ্রামে বিনা মূল্যে ব্লাড ক্যাম্পেইন করেও মানুষের মধ্যে রক্তদানের উৎসাহ তৈরি করে । এখন গড়ে প্রতিদিন ৪/৫ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিতে হয়।
মাসুদ এ হাসান বলেন, আমাদের সমাজে অসংখ্য অভাবগ্রস্ত মানুষ রয়েছে। যাদের টাকা দিয়ে রক্ত কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকসময় রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমাদের আশেপাশের অনেকে নিজের রক্তের গ্রুপ পর্যন্ত জানে না। রক্তদান ও সংগ্রহ করে মানুষের জীবন বাঁচানোতেই আমার তৃপ্তি। আমার সামান্য কষ্টে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটে। এই হাসিই আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার । যতদিন বেঁচে থাকি মানুষের সেবায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাঘা ব্লাড ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার চালু করা হয় যা গুগল প্লেস্টোরে সার্চ দিলে পাওয়া যায়।