৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি| বিকাল ৫:৪৯| গ্রীষ্মকাল|
Title :
মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল কুড়িগ্রাম জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত রামগড় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা কুড়িগ্রামে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার অবশেষে মুক্তি পেল জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন উৎসব- তারেক শামস খান হিমু কলমাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত – তারেক শামস খান হিমু মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ – তারেক শামস খান হিমু যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত

ঝালকাঠিতে তীব্র শীতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন

মাসুমা জাহান,বরিশাল ব্যুরো
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১,
  • 65 Time View

মুখ থেকে গাড়ির স্টার্ট উঠিয়ে একটি সুপারী গাছ থাপড়ে বাসের হেলপারের মতোই ডাক দিতে থাকে। আর বলতে থাকে ক্লাব, মোল্লারহাট, নৈকাঠি, ফেরিঘাট। যাবেন? যাবেন? তাইলে ওঠেন। আশপাশে কোন লোক না থাকলেও এভাবেই সে ডাকতে থাকে। প্লাস্টিকের বোতল কেটে একটি গাছের সাথে লটকিয়ে আজানের ধ্বনি উচ্চারণ করে। সে একা একা নামাজও পড়ে। যখন যা ইচ্ছে তখনই এভাবে করতে থাকে।

মো. আরাফাত হোসেনের ১১ বছর বয়স হলেও তার নেই কোন বিবেচনা শক্তি। জন্মের পর ৪ বছর বয়স থেকে তার শারিরীক ও মানসিক অবস্থা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। পিতা আফজাল হোসেন সে একজন দিনমজুর। মা গৃহিনী রহিমা বেগমও শারিরীক ও মানসিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন। জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা কাঠের ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দিনমজুর আফজাল হোসেন।

রহিমা বেগম জানান, ছেলে আরাফাত হোসেন ছোট্টকাল থেকেই অসুস্থ। তাকে নিয়ে অনেক বিপদে আছি। সবসময় চোঁখে চোঁখে রাখতে হয়। বর্ষা এলে বৃষ্টিতে ভিজি এবং শীত আসলে ছালা (চট) মুড়িয়ে রাত কাটাই। ভাঙাচোরা ঘরে কোন ভাবে থাকতে পারছি না। শুনছি অসহায় সবাই প্রধানমন্ত্রীর ঘর পায়, আর মোরা প্রতিবন্ধী পোলাডারে লইয়া কস্টে থাহি।

পরিবারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, আফজাল হোসেন উঠতি বয়স থেকে শ্রম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। তার বয়সও ৫০ বছরের বেশি হয়েছে। দীর্ঘ দিন শারিরীক পরিশ্রমের কারণে এখন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান ধরনের রোগ ব্যাধি । এখন একদিন শ্রমবিক্রি করলে দুই দিনে আর কাজ করতে পারেন না। যখন বেশি পরিশ্রম করতে পারতেন তখন জমানো টাকা দিয়ে টিন কাঠের ঘর তুলে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। বর্তমানে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ঘরের টিন ও বেড়া ভেঙে খসে খসে পড়ছে। সংস্কার করানোর মতো তার কোন আর্থিক অবস্থা নেই। তীব্র শীতে প্রতিবন্ধী সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আফজাল হোসেনের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে।পাশ্ববর্তী শুক্তাগড় গ্রাম সীমান্তবর্তী হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক অনুন্নত।

আফজাল হোসেন জানান, যহোন মানসের বাড়ি কাম করতে পারতাম তহোন টাকা পয়সা পাইতাম। সেই টাকা দিয়া একটু ঘর উঠাইছি। এহোন বয়স হইছে, আগের মতো কামও করতে পারি না। ঘরটাও ভাইঙা গেছে, টাকা নাই মিস্ত্রি দিয়া হারাইতেও পারি না। কত কষ্টে থাকতে হয় হেয়া কইতে পারি না। যদি ভালোভাবে মাথা গোজার একটু ঠাঁই পাইতাম, তাইলে অন্তত প্রতিবন্ধী পোলাডারে লইয়া ভালোভাবে থাকতে পারতাম।তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এলাকার গণ্য মান্য ব্যাক্তিদের নিকট তাঁর পরিবারের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার অনুরোধ জানিয়েছেন|

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category