৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি| দুপুর ২:২৪| গ্রীষ্মকাল|
Title :
ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার ফুলবাড়ীতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৪ বিশ্বকে বাঁচাতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধের দাবি তরুণদের মানববন্ধন পূর্বধলায় কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে আ.লীগের কোনো পক্ষ সমাবেশ করতে পারেনি চুনারুঘাটে প্রানিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসার পরিচালক ও মোহতামিমগণের সাথে মত বিনিময় সময় টেলিভিশন ১৩ পেড়িয়ে ১৪ তে কুড়িগ্রামে নানার বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে আপন খালাতো ভাই বোনের মৃত্যু সৈয়দপুরে সময় টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ।

ইমদাদ সুমন ভোলা প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২১,
  • 44 Time View

মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য বীরত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। দিবসটি পালনে কেক কাটা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

মোস্তফা কামালের বাবা হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান ও মা মালেকা বেগম। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার স্ত্রীর নাম পিয়ারা বেগম। ছোট বেলা থেকেই স্কুলের পড়াশোনার চেয়ে ভালো লাগত সৈনিকদের কুচকাওয়াজ ও মার্চ করা। নিজেও স্বপ্ন দেখেন সৈনিক হওয়ার। ১৯৬৭ সালে কাউকে কিছু না বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন তিনি।

১৯৭১ সালে মোস্তফা কামাল ২৪ বছরের যুবক। ৭ মার্চ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে আন্দোলিত হন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েন বীরদর্পে।

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল সিপাহি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে একটি মুক্তিযোদ্ধাদের দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে এগিয়ে আসা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ঠেকানোর জন্য আখাউড়ার দরুইন গ্রামে অবস্থান নেয়। সংখ্যায় বেশি ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর সাথে মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল অদম্য মনোবল। ১৮ এপ্রিল সকাল থেকেই আকাশে মেঘ ছেয়ে ছিল। বেলা ১১টার দিকে শুরু হলো প্রচন্ড বৃষ্টি। একইসাথে শত্রুর গোলাবর্ষণ। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি ছুড়তে শুরু করলেন। শুরু হলো সম্মুখযুদ্ধ। মেশিনগান চালানো অবস্থায় এক মুক্তিযোদ্ধার বুকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে মোস্তফা কামাল এগিয়ে এসে চালাতে লাগলেন স্টেনগান।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আধুনিক অস্ত্র ছিল না। সংখ্যায়ও অনেক কম তারা। পাকিস্তানি সৈন্যরা সংখ্যায় ছিল বেশি। ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত তারা। হয় সামনা-সামনি যুদ্ধ করে মরতে হবে, নয়ত পিছু হটতে হবে। কিন্তু পিছু হটতে হলেও সময় দরকার। ততক্ষণ অবিরাম গুলি চালিয়ে শত্রুদের আটকিয়ে রাখতে হবে। কে নেবে এ দায়িত্ব? এমন সময় আরও একজন মুক্তিযোদ্ধার বুকে গুলি বিঁধল। ততক্ষণে মোস্তফা কামাল সহযোদ্ধাদের সরে যেতে বললেন। পরিখার মধ্যে সোজা হয়ে চালাতে লাগলেন স্টেনগান। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ছেড়ে যেতে না চাইলে তিনি আবারও সবাইকে নিরাপদে যেতে বলেন। অবিরাম গুলি চালাতে থাকেন তিনি। তার গোলাবর্ষণে শত্রুদের থামকে যেতে হয়েছে। মারা পড়েছে বেশ কয়েকজন পাক সৈন্য। ততক্ষণে দলের অন্য সদস্যরা সাবধানে পিছু হটে যান।

একসময় মোস্তফা কামালের গুলি শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ করেই একটি গুলি লাগে তার বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুবরণ করেন মোস্তফা কামাল। তার এমন বীরত্বের কারণে সহযোদ্ধাদের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। দরুইনের মাটিতে সমাহিত করা হয় জাতির এই শ্রেষ্ঠ বীরকে। তিনি আমাদের গর্ব ও গৌরব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category