৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি| বিকাল ৩:৪৬| গ্রীষ্মকাল|
Title :
ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার ফুলবাড়ীতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৪ বিশ্বকে বাঁচাতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধের দাবি তরুণদের মানববন্ধন পূর্বধলায় কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে আ.লীগের কোনো পক্ষ সমাবেশ করতে পারেনি চুনারুঘাটে প্রানিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী ২০২৪ অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীতে মাদ্রাসার পরিচালক ও মোহতামিমগণের সাথে মত বিনিময় সময় টেলিভিশন ১৩ পেড়িয়ে ১৪ তে কুড়িগ্রামে নানার বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে আপন খালাতো ভাই বোনের মৃত্যু সৈয়দপুরে সময় টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঝালকাঠি -খুলনা-বরিশাল মহাসড়কের রাজাপুর এলাকায় কেটে ফেলা হচ্ছে শতবর্ষী গাছ

মাসুমা জাহান,বরিশাল ব্যুরো
  • Update Time : শুক্রবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২১,
  • 102 Time View

মাসুমা জাহান,বরিশাল ব্যুরো:

বৈধ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার হলেও খুলনা বরিশাল মহাসড়কের ক্ষতিসাধন করে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে শতবর্ষী রেইন্ট্রি গাছ। এতে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এই মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ এই অজুহাতে ‘গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৬৬৪টি গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছের ডালপালা ছেটে যানবাহন চলাচলের ঝুঁকি এড়ানো যেত পারে বলে জানায় স্থানীয়রা।কিন্তু তা না করে সমূলেগাছ নিধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান সেতু থেকে রাজাপুরের মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে গাছ কাটার এই মহাযজ্ঞ চলছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সড়কের পাশ ঘেষে মাটি খুঁড়ে গাছের শিকড় উপড়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে মূল সড়ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছাসের হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকা।

দক্ষিণের উপকূলীয় জনপদ ঝালকাঠি-রাজাপুর আঞ্চলিক সড়কের স্থানীয় অধিবাসীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে আসছে এই বিশালাকৃতির গাছগুলো। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বেশকিছু গাছ ব্রিটিশ শাসন আমলে তাদের পূর্ব পুরুষরা লাগিয়ে ছিল। কিছু সওজ কর্তৃপক্ষ লাগালেও অধিকাংশ গাছ রোপণ করেছে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা। তাদের অভিযোগ- শ্রমিকরা সড়কের ছোট বড় সব গাছ সাবার করে দিচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

শতবর্ষী এসব গাছের ডালপালা সড়কের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঝুলে থাকার কারণে মাঝে মধ্যে কিছু দূর্ঘটনা ঘটছে। ২০২০ সালের ২০ জুলাই রাজাপুরের বলাইবাড়ি নামক স্থানে একটি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকে পড়া একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে একটি গাড়ির ছাদ উড়ে যায়। এতে ১৬ জন যাত্রী আহত হয়। এরপর থেকেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ আঞ্চলিক সড়কের ঝূঁকিপূর্ণসহ ভালো গাছগুলো ও কাটতে বিভিন্ন উন্নয়ন সভায় প্রস্তাব করে আসছে।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মাস পূর্বে ঢাকার প্রধান বৃক্ষপালনবিদ সওজ কার্যালয়ে এ গাছ বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ঝালকাঠি-রাজাপুর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে ৬৬৪টি গাছ মাত্র ৭১ লাখ ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ হিসেবে গড়ে প্রতিটি গাছের দাম পড়ে মাত্র ১০ হাজার ৭শ’ টাকা। আলাদা লটে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছগুলো ক্রয় করে। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা সম্প্রতি এ গাছগুলো কাটা শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ডিপ টিম্বার ট্রেডার্স, রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স টিএন্ডটি এন্টারপ্রাইজ, কাজী এন্টারপ্রাইজ ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ।

রাজাপুর পিংরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা একটি প্রাচীন বিশাল রেইন্ট্রি গাছ কেটে একাধিক খন্ডে ভাগ করেছে। গাছ কাটার কারণে সড়করে দুই পাশে গাড়ির লম্বা লাইন পড়েছে। গাছের গোড়ার শিকড়ের অংশ মাটি খুঁড়ে বের করছে শ্রমিকরা। পাশের কিছু গাছ এমনভাবে শিকড়সহ কেটে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে দেখে বোঝার উপায় নাই সেখানে গাছ ছিল।

এ বিষয়ে পিংরী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মজিদ মিয়া (৫০) বলেন, শত বছরের প্রতিটি গাছের দাম ১ থেকে দেড় লাখ টাকা হলেও শুনেছি পানির দামে বিক্রি করা হয়েছে গাছগুলো। আমাদের পূর্ব পুরুষদের লাগানো গাছের ডাল কাটলে আগে পুলিশ ধরত। এখন এভাবে গাছের গোড়াসহ কেটে উঠিয়ে নিলেও পরিবশে নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। এ কারণে পাখিরা হারাবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। পথিক ছায়া থেকে বঞ্চিত হবে। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ও রাজাপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাজাহান মোল্লা বলেন, সড়কের দুই পাশের গাছগুলো ছিল এ উপজেলার মানুষের সবুজ বেষ্টনি। সিডরসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এরা আমাদের রক্ষা করেছে। নির্বিচারে গাছ কেটে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাদের এমন সিদ্ধান্তে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, সড়কের দুই পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ চালক ও বাস মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সড়কের বিভিন্ন বাকে গাছের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সব পরিষ্কার হলে সড়কের দুই ধারে আবার পরিকল্পিতভাবে আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category