১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি| সন্ধ্যা ৬:০০| গ্রীষ্মকাল|

বাউফলে আমন ধানে পোকার আক্রমন, কৃষকদের মাথায় হাত।

এ,জেড,এম উজ্জ্বল ; পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।
  • Update Time : মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১,
  • 96 Time View

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে বাম্পার ফলনে আমন ধানের শীষ দোল খাচ্ছে। কিন্তু ধানের ক্ষেতে কাঁচা-সোনার রং আসতে না আসতেই শীষ কাটা লেদা পোকা আর ফলস স্মার্ট রোগের অক্রমন দেখা দিয়েছে। এতে করে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে।

জানা গেছে, বাউফলে এ বছর ৩৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বি আর-১১, বি আর-২২, বি আর-২৩, বি আর-২, ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান- ৪১, ব্রি ধান- ৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৫৪, ব্রি ধান-৭২, বাম্বু ইরি, বিণা- ৭, বিণা-১১, বিণা-২০, বিণা-১৭, টেপু ও স্বর্ণা মিলে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১৭ হাজার ১১৩ হেক্টর এবং কাজল শাইল, শাইল গিরমী, সাদা চিকন, লাল চিকন, রাজা শাইল, মোথামোটা, লাল মোটা, কুটি অগ্রাণী, কালজিরা, কালাকোরা, স্বাক্ষরখোরা, চিনিগুড়া ও গন্ধ কস্তরী মিলে স্থানীয় জাতের আছে ১৭ হাজার ৫৪৩ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও ১৪ হেক্টরে আছে হাইব্রীড জাতের ধান। বীজতলা তৈরী থেকে তুলনামূলক অনুকুল আবহাওয়া থাকায় বাউফলের চরাঞ্চলগুলোর দিগন্তজুড়ে বিস্তৃর্ণ আমনের চোখ জুড়ানো সোনালী-হলুদাভাব। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মাঠে মাঠে ধুম পড়বে আমন কাটার। স্বপ্ন পূরণে কৃষক-কৃষাণী ঘরে তুলবে সোনার ধান। কিন্তু এই মুহুর্তে শীষকাটা লেদা পোকা আর ফলস স্মার্ট রোগের আক্রমনে দিশেহারা কৃষকরা।

কৃষক মাহবুব দেওয়ান, শাহজাহান মাতবর ও আলমগীর গাজীসহ একাধীক কৃষক জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে আমন ধান পাকার এই মুহুর্তে শীষকাটা লেদা পোকা আর ফলস স্মার্ট রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে। আমন কাটার ভর মৌসুমের অল্পসময় বাকি থাকলেও এই মুহুর্তে গাছের গোড়ার দিকে লুকানো লেদা পোকা ধানের শীষ কেটে সর্বনাশ করছে। দিনের বেলায় পোকা গাছের গোড়ায় লুকিয়ে থাকে আর রাতে শীষ কাটে কিন্তু ধান খায় না। তবে শীষ ও শীষের কানা কেটে ধান ঝড়িয়ে বিনষ্ট করছে।

সরেজমিন ক্ষনিকাটা (শীষ কাটা) লেদা পোকার আক্রমনে স্থানীয় মাপের প্রায় ৮০ শতাংশ জমির আধা-পাকা ইরি ধানের ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করতে দেখা যায় সুলতানাবাদ গ্রামের হারুন দেওয়ানকে। জানতে চাইলে স্প্রে করা বন্ধ করে ধান গাছের গোড়ায় খুঁজে কয়েকটি লেদা পোকা তুলে হাতের তালুতে রেখে দেখায় সে। তার ধান ক্ষেতের লেদা পোকায় কাটা আধা-পাকা ঝড়া ধান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আবার অনেক কৃষকের ক্ষেতে ধানের শীষে ফলস স্মার্ট নামে লক্ষ্মীর গু বা ভূয়াঝুল নামে কালো কালো গুটি দেখা গেছে। যে শীষে এ রোগের আক্রমন দেখা যায় সেই শীষের ধানের চাল নস্ট হয়েছে। এক ধরণের ছত্রাক ধানের বাড়ন্ত চালকে নস্ট করে বড় বড় গুটিকা সৃষ্টি করে আছে। গুটিকার ভেতরে হলদে কমলা রং এবং বহিরাবরণ সবুজ অথবা কালচে। গুটিকাগুলো ১ সেমিঃ। কখনো আবার ১ সেমিঃ থেকেও বড় আকারের দেখা যায়। কোন শীষে কয়েকটা ধানে বেশী আক্রমন চোখে পড়ে।

উপজেলার কেশবপুর ডিগ্রি কলেজের জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক তাসলিমা বেগম জানান, অতি বৃষ্টিপাতের মতো আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব, রোদ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, শীত, গাছের শক্তিমত্তা এসব কারণে বংশবৃদ্ধি ঘটে পোকার আক্রমন হতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোকা দমন ও চাষবাসে কৃষক-কৃষাণীর সচেতনতা সৃষ্টি খুবই জরুরী হয়েছে। ধানের ফলস স্মার্ট সম্পর্কে তিনি জানান, এটি ছত্রাক জনিত রোগ। গুটিকায় আঠা জাতীয় পদার্থ থাকায় ক্ল্যামাইডোস্পোর জাতীয় অনুবীজ সহজে বের হয় না। শোধন না করে আক্রান্ত ক্ষেতের ধান পরবর্তী বছরের বীজ হিসেবে ব্যাবহার করা যাবে না। সকাল বেলা আক্রান্ত শীষ ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে সাবধানে পলিথিন ব্যাগে পুরে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে যাতে স্পোর না ছড়ায়। জমিতে ছত্রাক নাশক হিসেবে কার্বনডাজিন গ্রুপের করজিম বা নোইন কিংবা এই গ্রুপের অন্যকোন ওষুধ স্প্রে করতে হবে। ধান কাটার পর আশপাশের জমিসহ আক্রান্ত ক্ষেতের খড় পুড়িয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপ, ধুলিয়া, নাজিরপুর এলাকায় লেদা পোকার আক্রমনের কথা জানা গেলেও তা আগের বছরের মতো বড় ধরণের কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না। কৃষকের ক্ষেতের ৮০ শতাংশ ধান পেঁকে গেছে। পাঁকা ধান কেটে নেয়া সহ আমরা সার্বক্ষনিক নজর রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। ফলস স্মার্ট সম্পর্কে কৃষকদের ভ্রান্ত ধারণা আর প্রতিকারে বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category