২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি| সকাল ৯:০৮| গ্রীষ্মকাল|
Title :
অবশেষে মুক্তি পেল জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন উৎসব- তারেক শামস খান হিমু কলমাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত – তারেক শামস খান হিমু মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ – তারেক শামস খান হিমু যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ আপেলের যোগদান মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান মা ও শিশু সংস্থা ফ্লোরিডা (USA)ও স্বপ্নের সিঁড়ি সমাজ কল্যান সংস্থার মাধ্যমে পবিত্র মাহে রমজানের ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ। শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত, শিশুদের ঈদের নতুন জামা আর সালামী দিয়ে মুখে হাসি ফোটালো ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’

পিরোজপুরে ধ্বংসের পথে সাড়ে ৩শ বছরের রায়েরকাঠি রাজবাড়ি

মাসুমা জাহান,বরিশাল ব্যুরো
  • Update Time : শনিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২১,
  • 115 Time View

পিরোজপুরের রায়েরকাঠি রাজবাড়ি।জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে রায়েরকাঠিতে ২০০ একর জমি নিয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ রাজবাড়ি।এখানে আছে ১৬৬৮ সালে নির্মিত কালী মন্দির, ১১টি মঠ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজবাড়ি। ধ্বংসপ্রাপ্ত এসব মঠ ও রাজবাড়ি দেখেই পর্যটকরা মুগ্ধ হতে বাধ্য।

প্রচারণা ও পর্যটন সুবিধা না থাকায় বাড়িটি দেখতে তেমন লোকের আনাগোনা হয় না।তবে প্রতিদিনই কিছু লোক আসেন এটি দেখতে।ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন সপ্তদশ শতাব্দীর মনোরম নির্মাণশৈলী।

ইট ও চুন-সুড়কি দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে প্রাসাদ ও মঠগুলো। কালের বিবর্তনে ধ্বংসের পথে মূল রাজবাড়ির অধিকাংশ ভবন। তবে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৩৫৭ বছরের পুরোনো কালী মন্দির ও ৭৫ ফুট উঁচু ১১টি মঠ।

শোনা যায়, এরই একটি মঠে স্থাপন করা হয়েছে ২৫ মণ ওজনের একটি শিবলিঙ্গ।কষ্টি পাথরের তৈরি এ মহামূল্যবান শিবলিঙ্গটি উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শিবলিঙ্গ বলে ধারণা করা হয়।

ইতিহাস গবেষক গোলাম মোস্তফার ‘সংগ্রামী পিরোজপুর’ বইয়ে পাওয়া যায়, ‘সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে যুবরাজ সেলিম বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাংলায় আসেন।এরপর তিনি ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি পরগনা সৃষ্টি করেন। নিজের নামে নাম রাখেন সেলিমাবাদ।’

১৬১৮ সালে সেলিমাবাদ পরগনার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পান মদন মোহন। ১৬২৮ সালে তিনি তার ছেলে শ্রীনাথের নামে সেলিমাবাদ পরগনার কিছু জমি নেন। শ্রীনাথ ঝালকাঠির লুৎফাবাদ গ্রামে কাচারি স্থাপন করে বসবাস করতেন। এরপর মুঘল সম্রাট শ্রীনাথকে রাজা উপাধি দেন।

১৬৫৮ সালে রাজা শ্রীনাথ রায়ের ছেলে রুদ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী পিরোজপুরের অদূরে বসবাস শুরু করেন। পরে সেখানে তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে রাজবাড়ি ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বন-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয় বলেই সেখানকার নামকরণ করা হয় রায়েরকাঠি।

রাজা রুদ্র নারায়ণ কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় পাঁচজন নিম্নবর্ণের হিন্দুর মুণ্ডু কেটে তার ওপর মূর্তি স্থাপন করেন। রাজার এ নিষ্ঠুর ঘটনা ঢাকার প্রাদেশিক সুবেদার শাহবাজ খানের কানে পৌঁছালে রুদ্র নারায়ণকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য রুদ্র নারায়ণকে হাজার হাজার মানুষের সামনে বাঘের খাঁচায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

তবে খাঁচার মধ্যে লড়াই করে বাঘ মেরে ফেলেন তিনি। এ খবর সুবেদারের কানে গেলে রুদ্র নারায়ণের দণ্ড মওকুফ করেন। রুদ্র নারায়ণ তার কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে রাজবাড়িতে না ফিরে ছেলে নরোত্তম নারায়ণ রায়কে রাজত্ব বুঝিয়ে দিয়ে কাশি চলে যান। সেখানে তিনি আমৃত্যু সন্ন্যাস জীবন পালন করেন।

একসময় রাজপ্রথা বিলুপ্ত হলে চালু হয় জমিদারি প্রথা। এতে রাজা রুদ্র নারায়ণ রায়ের উত্তরসূরীরা পরিণত হন জমিদারে। ফলে রায়েরকাঠির এ ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেউ জমিদার বাড়ি, কেউ রাজবাড়ি বলে থাকেন। অমরেন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন এ বংশের শেষ জমিদার।

সরেজমিনে জানা যায়, ভেঙে পড়ছে রাজবাড়ির প্রধান ফটক, প্রাসাদ, কাচারি, অতিথিশালা, নাট্যশালা, জলসাঘর, অন্ধকূপ ও মঠগুলো। নবরত্ন মঠসহ তিনটি মঠের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ভবনের গায়ে শ্যাওলা ও লতাপাতা জন্মে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ও মঠ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন স্থানটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে অন্যদিকে, রায়েরকাঠি হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম পর্যটন স্থান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category