
মোঃ রাসেল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
খোলা আকাশের নিচে কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাই, সেখানেই আশ্রয় লাখ লাখ মানুষের। পর্যাপ্ত খাবার নেই, পানি নেই, নেই জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। থেকে থেকে চলছে ইসরাইলের মুহূর্মুহূ বোমাবর্ষণ। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যেই পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানালেন গাজার অধিবাসীরা।
ইসরাইলের বোমা হামলার মধ্যেই রোজা রাখছেন গাজাবাসী।
সাধারণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশেই পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানায় গাজাবাসী। কিন্তু এবারের চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত, ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধের দগদগে ঘা আর তীব্র ক্ষুধার ভয় অধিবাসীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গাজার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন ইসরাইলি পুলিশের কঠোর দৃষ্টি।
এর মধ্যেই যতটা সম্ভব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে রোজার প্রস্তুতি নিয়েছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের পাশাপাশি রোববার (১০ মার্চ) ফিলিস্তিনেও রমজানের চাঁদ দেখা যায়। ফলে সোমবার (১১ মার্চ) প্রথম রোজা রাখছেন গাজাবাসী।
মৃত্যুর পরোয়ানা মাথার ওপর থাকা সত্ত্বেও চাঁদ দেখার পরই গাজাবাসীর অনেককেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এরপর রোববার রাতে তারা তারাবি নামাজ পড়েছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় তারাবি নামাজ চলছে।
পবিত্র রমজান মাসে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল ইসরাইল। সেই প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেই এদিন অনেকেই তারাবি পড়তে আল-আকসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনমতে, জেরুজালেমের পুরানো শহরের সরু রাস্তার চারপাশে হাজার হাজার ইসরাইলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখানেই আল আকসা মসজিদ অবস্থিত।
এলাকাটি ইহুদিদের কাছেও সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচিত। এটাকে তারা ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে ডাকে। ২০২১ সালে গাজা নিয়ন্ত্রক হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত্র হয়েছিল এখান থেকেই।
সেই সংঘাত ১১ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে ওই সংঘাত চলমান যুদ্ধের কাছে বলতে গেলে কিছুই না। কারণ গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়ার পর এবারের সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে। ইসরাইলি হামলায় এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে পুরো গাজা।
২৩ লাখ অধিবাসীর ১৯ লাখই এখন উদ্বাস্তু। উন্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে তারা। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, রমজান মাস এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন গাজার সর্বত্র ক্ষুধার হাহাকার বিরাজ করছে। রোজার মাসে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ করার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) রোববার জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ইসরাইলের মারাত্মক আক্রমণের মধ্যে গাজা উপত্যকাজুড়ে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গাজার সর্বত্রই ক্ষুধা বিরাজ করছে।’
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলেছে,
পবিত্র রমজান সোমবার শুরু হলেও উপত্যকাজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংস্থাটির ভাষায়, গাজার পরিস্থিতি দুঃখজনক, বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সেখানে স্থলপথে সাহায্য সরবরাহের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গাজায় ‘নৃশংস অপরাধ’ বন্ধের আহ্বান সৌদি বাদশাহর
ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে,
জীবন বাঁচাতে গাজা উপত্যকাজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রবেশের সুযোগ এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অপরিহার্য।
এদিকে রমজান শুরুর পরও গাজায় বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৬৭ জন নিহত হয়েছে। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ১১২ জনে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭৬০ জনে।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: মোঃ শফিউল ইসলাম শফিক; সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মোস্তফা রুমি, এলএল.বি(অনার্স), এলএল.এম, 01715672097; ( বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদন পত্রের ক্রমিক নং: ৬৫৭/২২ )
কপিরাইট © ২০২৫ swadeshkonthoprotidin এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।