৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি| সন্ধ্যা ৬:০৯| গ্রীষ্মকাল|
Title :
মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল কুড়িগ্রাম জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত রামগড় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা কুড়িগ্রামে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার অবশেষে মুক্তি পেল জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন উৎসব- তারেক শামস খান হিমু কলমাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত – তারেক শামস খান হিমু মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র মূলত আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ – তারেক শামস খান হিমু যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর এত জুলুম কেন

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি মোঃ আল-আমিন
  • Update Time : শনিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২১,
  • 72 Time View

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি এক সমাবেশের আয়োজন করে
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি এক সমাবেশের আয়োজন করে ।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম এলাকার জমি চুক্তির শর্ত অনুসারে মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠেছে। একই সঙ্গে সরকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর কেন এত জুলুম করছে, সেই প্রশ্নও ওঠেছে সমাবেশ থেকে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আজ শনিবার আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি ওই সমাবেশের আয়োজন করে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালপল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘটনার পাঁচ বছর আজ।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলশ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ পুলিশ সদস্য তিরবিদ্ধ ও ৪ সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ মারা যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বসতি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে।
পল্লির পূর্ব পাশে রংপুর চিনিকলের ১ হাজার ৮৪২ একরের সাহেবগঞ্জ আখের খামার। খামারের জমিগুলো ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করা হয়। এর সিংহভাগ ছিল সাঁওতাল এবং আশপাশের অল্প কিছু মুসলিম ও হিন্দু পরিবারের। এখন এসব জমিতে আর আখ চাষ হয় না। এই জমি ফেরত চেয়ে সাঁওতালরা ২০১২ সাল থেকে আন্দোলন করছে।

সমাবেশে বেশ কয়েকজন বক্তা বলেন, রংপুর চিনিকল বন্ধ আছে। তাই রংপুর চিনিকলের জন্য আখ চাষের প্রয়োজন পড়ছে না। শর্তানুযায়ী জমির মালিকদের জমি অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে। কেননা, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওই জমি যে উদ্দেশ্যে হুকুম দখল করা হয়েছে, তা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এখন চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্মের জমিতে ইপিজেড গড়ার নামে তিন ফসলি জমি তুলে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর এলাকা গোপলগঞ্জে ইপিজেড করেন। ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে অনেক জায়গা আছে। যে জমিতে চার ফসল হয়, সেখানে ইপিজেড নয়। তাঁদের জমি ফেরত দেন। ২০১৬ সালে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহত প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি বার্নাবাস টুডো বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল, গরিব মানুষ। আমাদের সম্পত্তির ওপর রাষ্ট্রের এত জুলুম–অত্যাচার কেন? বাড়িঘর উচ্ছেদ করে সম্পদ দখল করা হচ্ছে কেন? রাষ্ট্র এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর এত জুলুম–অত্যাচার করছে কেন? বড় বড় ভূমিদস্যুরা সরকারের জমি ভোগ দখল করে খাচ্ছেন, সেখানে সরকারের কোনো নজর নেই। সরকারের নজর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর সম্পত্তি কোথায় কোথায় আছে, সেখানে। সরকারের কথা ছিল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ঘটাবে। যাদের নিয়ে উন্নয়নের কথা, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পিতৃপুরুষের সম্পদ কোনোমতেই ছেড়ে দিতে রাজি নই। ইপিজেড গড়ার এখন একটা পাঁয়তারা চলছে।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, একদিকে একের পর এক মন্দিরে হামলা, অন্যদিকে উন্নয়নের নামে সাঁওতাল কিংবা পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিকে তাদের জমি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। চুক্তি হয়েছে, ওই জমি যদি আখ চাষের জন্য ব্যবহৃত না হয়, তাহলে মূল মালিকদের ফেরত দিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে একটি শ্রেণি সেগুলো লিজ নিয়ে চাষ করছেন আর পুরোটা দখল করে ইকোনমিক জোন করবেন। মানুষকে উচ্ছেদ করে ইকোনমিক জোন হতে দেব না। দেশে স্বেচ্ছাচারী রাজত্ব তৈরি হয়েছে। এই রাজত্বের বিরুদ্ধে বাঙালি–অবাঙালি বাংলাদেশের প্রতিটি জাতি–ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভাজিত করার চক্রান্ত চলছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও বাঙালিরা মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমির জন্য যে লড়াই গড়ে তুলেছে—এটি বাংলাদেশের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে। ঐক্যের রাজনীতির পথরেখা গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে গুলি করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিনজনকে হত্যা ও লুটপাটের বিচার চাই। তাঁদের নিয়ে নেওয়া জমি ফেরত চাই। যত দিন পর্যন্ত তাঁরা ভূমি ফেরত না পাবেন, তত দিন আন্দোলন চলবে।
ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে, জমি এখন আমাদের। এই সম্পত্তিতে আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। জীবন দিয়ে হলেও পূর্বপুরুষের জমি দখলে রাখা হবে।’
রাষ্ট্র এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর এত জুলুম–অত্যাচার করছে কেন? বড় বড় ভূমিদস্যুরা সরকারের জমি ভোগ দখল করে খাচ্ছেন, সেখানে সরকারের কোনো নজর নেই।
বার্নাবাস টুডো, সভাপতি, সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি
সাহেবগঞ্জ–বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি সদস্য জাকিয়া শিশিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ভাসানী অনুসারী পরিষদের নঈম জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ থেকে পুড়িয়ে দেওয়া ঘরবাড়ি, মন্দির ও স্কুলঘর পুনর্নির্মাণ এবং আন্দোলনরত নিপীড়িত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও বাঙালিদের বিরুদ্ধে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দেড়টা পর্যন্ত প্রতিবাদ সমাবেশ চলে। পরে শহীদ মিনার থেকে র‍্যালি বের হয়ে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে শেষ হয়। এতে শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category