
♦ভূমিকঃ
বিপদ কখনো বলে বা আগাম বার্তা দিয়ে আসেনা। তাই সাবধানতার অংশ হিসেবে প্রতিটি বাড়িতেই ফার্স্ট এইড বক্স বা ফার্স্ট এইড কিট থাকা উচিত এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারনা ও দক্ষতা থাকা প্রত্যেক মানুষের জেনে রাখা উচিত যাতে যেকোনো দুর্ঘটনার প্রাথমিক ভাবে সামাল দেয়া যায়। ফার্স্ট এইড বক্স দোকানেও কিনতে পাওয়া যায় আবার নিজে তৈরিও করা যায়।
♦প্রাথমিক চিকিৎসার কিঃ
কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে রেজিস্টারকৃত ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বে বা ডাক্তার আসার পূর্বে অথবা রোগীকে ডাক্তারের কাছে স্থানানতরিত করার পূর্বে আকস্মিক অসুস্থতা বা দূর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিক ভাবে যে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।
♦প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যঃ
১।রোগীর জীবন রক্ষা করা।
২।রোগীর অবস্থার অবনতি রোধ করা।
৩।রোগীর অবস্থার উন্নতি করা
♦ফার্স্ট এইড বক্স তৈরী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংরক্ষণের উপায়ঃ
১। স্বচ্ছ, পরিস্কার, এয়ার টাইট কোনো প্লাস্টিকের বক্স নিতে পারেন অথবা জিপ পাউচ ব্যাগ নিতে পারেন। স্বচ্ছ হলে বাইরে থেকে মেডিসিন দেখা যায়, যা প্রয়োজনে সহজেই খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এবং তাতে বড় বড় করে ফার্স্ট এইড বক্স লিখে রাখলে সহজেই দৃষ্টিগোচর হবে।
২। বক্সটি শিশুদের নাগালের বাইরে ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে। কিন্তু ঘরের সবাই যেনো সে জায়গাটি সম্পর্কে জানে, এমনকি ছোট শিশুরাও জানবে যে এই জায়গাটায় ফার্স্ট এইড বক্স থাকে, যাতে ইমার্জেন্সি সময়ে সবাই খুঁজে পেতে পারে।
৩। বাসার সবাইকে এবং বড় বাচ্চাদের শুধু বক্সটি সম্পর্কে জানালেই হবে না এর ভেতরের ঔষধ গুলোর ব্যবহার সম্পর্কেও জানাতে হবে যে কোনটা কি কারণে ব্যবহার করা হয়, কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। প্রয়োজনে ব্যবহারবিধির একটা ছোট লিফলেট লিখে বক্স এ রাখা যেতে পারে।
৪। ফার্স্ট এইড বক্স এর মেডিসিন গুলো দীর্ঘ সময় কাজে নাও লাগতে পারে কিন্তু নিয়মিত সেগুলো চেক করতে হবে। এক্সপায়ারড ডেট পার হয়ে গেলে সেগুলো রিপ্লেস করে নতুন মেডিসিন রাখতে হবে।
৫। কি কি রাখতে হবে বক্সে তার একটি ছোট চেকলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে ফার্স্ট এইড বক্স তৈরি করার আগে।
♦ ফার্স্ট এইড বক্সে যা যা থাকতে হবে-
একটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে সাধারণত থাকে জীবাণুমুক্ত গজ কাপড়, রোলার ব্যান্ডেজ, কাঁচি ও চিমটা, হাতমোজা, লিউকোপ্লাস্ট, পচনরোধক মলম, ক্রেপ পট্টি, বার্ন ক্রিম,ঔষধপথ্য,নিরাপদ পিন, থার্মোমিটার, রক্তচাপ পরীক্ষণ যন্ত্র, লেখার খাতা ইত্যাদি। লেখার খাতা থাকে জরুরি ফোন নম্বর ও মন্তব্য লেখার জন্য, বিশেষ করে ডাক্তার ও অ্যাম্বুল্যান্স নম্বর লিখে রাখা হয় এই খাতায়।
♦ফার্স্ট এইড বক্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্হাপনা কোথায় কোথায় রাখা দরকারঃএককথায় বলতে গেলে বলবো বাড়ি,গাড়ি,অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফার্স্ট এইড বক্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্হাপনা রাখা খুবই জরুরি।
♦এবার জেনে নেয়া যাক কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেঃ
১।হঠাৎ কেটে গেলেঃ
ছোট ও অগভীর স্থান থেকে রক্তপাত তেমন হয় না। রক্তপাত হলে ক্ষতস্থানটি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন। আক্রান্ত স্থানটি এমনভাবে রাখুন, যেন তা হৃৎপিণ্ডের অবস্থান থেকে একটু উঁচুতে থাকে। বেশি নড়াচড়া করলে রক্তপাত বাড়তে পারে। রক্তপাত বন্ধ হলে পরিষ্কার তুলা বা গজের সাহায্যে অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে নিন। এরপর ব্যান্ডেজ করে রাখুন। বেশি রক্তপাত হলে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে।
২।হঠাৎ আঘাত পেলেঃ
হঠাৎ ব্যথা পেলে আক্রান্ত স্থান বরফ বা ঠান্ডা পানির বোতল দিয়ে চেপে ধরতে পারেন। তবে এগুলো সরাসরি প্রয়োগ করবেন না, পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে নিয়ে ব্যবহার করুন। এরপর ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে।
৩।বিদ্যুতায়িত হলেঃ
বিদ্যুতায়িত ব্যাক্তিকে মাটিতে শুইয়ে মাথা এক পাশে কাত করে দিন তারপর কম্বল দিয়ে তাকে ঢেকে রাখুন যাতে সে উষ্ণ থাকে যদি সে পিপাসার্ত বোধ করে তবে তার ঠোঁট ভেজা কাপড় দিয়ে ভিজিয়ে দিন এবং যদি সে অজ্ঞান হয়ে যায় তবে তার শ্বাস প্রশ্বাস লক্ষ্য করুন এবং যত দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
৪।বিষাক্ত কিছু খেলেঃ
কেউ বিষাক্ত কিছু খেলে বমি করানোর চেষ্টা করুন আর দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করুন।
উপসংহারঃ
যে জাতি যত প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে ধারনা রাখবে সেই জাতি স্বাস্থ্য বিষয়ে তত উন্নত হবে। রাষ্ট্রের পরিচালনায় দেশের সকল নাগরিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলে মৃত্যুর হারকমসহ দেশের আর্থিক দিকে অনেক উন্নয়ন হবে। সুতারাং ফার্স্ট এইড প্রতিটি মানুষের জানা খুবই গুরুত্ব বহন করে।
লেখক পরিচিতিঃ
সাংবাদিক ডা.এম.এ.মান্নান
ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও গবেষক
মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র
নাগরপুর,টাঙ্গাইল